shomoynew_wp969 ‘বছরের প্রায় ছয় মাস আমরা এরকম পানিবন্দি থাকি‘ | সারাবাংলা | Daily Mail | Popular Online News Portal in Bangladesh

বৃহঃস্পতিবার, ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩শে মাঘ ১৪৩২


‘বছরের প্রায় ছয় মাস আমরা এরকম পানিবন্দি থাকি‘


প্রকাশিত:
২০ আগস্ট ২০২৫ ২৩:৪০

আপডেট:
২১ আগস্ট ২০২৫ ০১:৩৪

ছবি সংগৃহীত

রাজবাড়ী জেলার পাংশা পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত এই পৌরবাসীরা। দীর্ঘদিন রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার না হওয়ায় নাগরিকদের ভোগান্তি প্রকট আকার ধারণ করেছে। সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাট। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় জমে থাকা পানিও নামতে সময় লাগছে দীর্ঘক্ষণ।

জানা গেছে, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজবাড়ীর পাংশা পৌরসভা। প্রায় অর্ধ লাখ জনঅধ্যুষিত পাংশা পৌরসভাটি ২০১১ সালে প্রথম শ্রেণিতে রূপান্তরিত হয়। কিন্তু পৌরবাসীর ঘাড়ে নিয়মিত করের বোঝা চাপালেও সেই তুলনায় বাড়েনি কোনো নাগরিক সুবিধা।

সরেজমিনে পৌর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ছোট বড় খানাখন্দে ভরা সড়ক। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় একটু বৃষ্টিতে ডুবে গেছে রাস্তা। অনেকস্থানে বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকেছে পানি। কোনো কোনো স্থানে বছরের অর্ধেক সময় জমে থাকে ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানি। ফলে শিশু থেকে বয়স্ক মানুষ পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভার বেশিরভাগ এলাকায় নেই পানির লাইন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা।এছাড়া ৫০ ভাগ সড়কের সংস্কারের কাজ হয়নি দীর্ঘদিন।

পৌরসভার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান শোভন বলেন, পাংশা পৌরসভার বেশিরভাগ এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। যা আছে তার বেশিরভাগই অচল, ড্রেন দিয়ে পানি প্রবাহিত হয় না। শহরের ভেতর ড্রেনের উপর ঢাকনা নেই। দীর্ঘদিনেও কোনো উন্নয়ন কাজ না হওয়ায় আমরা প্রচন্ড ভোগান্তিতে আছি।

পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আকলিমা আক্তার বলেন, আমাদের এলাকায় ড্রেন নাই। পৌরসভার সাপ্লাইয়ের পানির লাইন ও নাই। অথচ আমরা প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় বাস করি।আমার উঠানে পানি।ঘরে ঢুকতে হাঁটু পানি পাড়ি দিতে হচ্ছে। আমার ছোট ছেলে বারবার বলে কবে আম্মু পানি কবে কমবে, আমি বাইরে খেলতে যাব! বছরের প্রায় ছয় মাস এরকম পানিবন্দি থাকি আমরা।

পৌরসভার বাসিন্দা কুতুব উদ্দিন বলেন, পৌরসভা কি করে পৌরবাসীর ভোগান্তি দূর করবে! একটু বৃষ্টি হলে পৌরসভার মধ্যেই তো হাঁটু পানি হয়ে থাকে। যেখানে পৌরসভার ভেতরের পানি নিষ্কাশন এরই ব্যবস্থা নাই! সেখানে পৌরসভা বাসিন্দাদের জলাবদ্ধতা কি করে নিরসন করবে?

পৌরবাসীর বেহাল দশার কথা স্বীকার করে পাংশা পৌরসভার প্রশাসক ও পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আবু দারদা বলেন, ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সড়ক সংস্কারে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পাংশা পৌরসভা প্রথম শ্রেণির হলেও এখানে নির্বাহী প্রকৌশলী ছিল না। ইতোমধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী যোগদান করেছে। খুব তাড়াতাড়ি বড় প্রকল্পের মাধ্যমে পৌরবাসীর ভোগান্তি কমাতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমি পৌরসভার ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থানের চারপাশে বাউন্ডারি করার প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এতে করে ময়লার স্তূপ রাস্তার ওপর চলে আসবে না, স্তূপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াবে না।

ডিএম/রিয়া



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : editordailymail@gmail.com, newsroom.dailymail@gmail.com
সম্পাদক: মো. জেহাদ হোসেন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top