shomoynew_wp969 মাশরুম চাষে আত্মকর্মসংস্থানের পথ দেখাচ্ছেন উদ্যোক্তা অসিত বসু | সারাবাংলা | Daily Mail | Popular Online News Portal in Bangladesh

বৃহঃস্পতিবার, ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩শে মাঘ ১৪৩২


মাশরুম চাষে আত্মকর্মসংস্থানের পথ দেখাচ্ছেন উদ্যোক্তা অসিত বসু


প্রকাশিত:
২২ জুন ২০২৫ ০০:৫৫

আপডেট:
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:১৮

ছবি সংগৃহীত

নড়াইলে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে মাশরুম চাষ। সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের তরুণ কৃষক অসিত বসু নিজ উদ্যোগে এই চাষ শুরু করে এখন সফল উদ্যোক্তায় পরিণত হয়েছেন। চাষ করছেন তিন জাতের মাশরুম, যা বিক্রি হচ্ছে অনলাইন ও অফলাইনে।

তার দেখা দেখি ওই এলাকায় আরও ৩০ জন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা মাশরুম চাষে আগ্রহী হয়ে কাজ করছেন।

অসিত বসু কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের ঘরের এক কোণে শুরু করেন মাশরুম চাষ। প্রথমে ৫০টি স্পন দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে অসিতের খামারে রয়েছে দুই হাজার স্পন। খড়কুটো, কাঠের গুড়া, গমের ভুসি, ক্যালসিয়াম চুন ও পানি মিশিয়ে তৈরি করেন মাশরুম চাষের উপযোগী পরিবেশ। জীবাণুমুক্ত করার পর ২৮ দিন ল্যাবে রেখে তৈরি করেন মাদার টিস্যু। এরপর বিশেষ পরিবেশে প্যাকেটগুলোতে চাষ করেন সুস্বাদু মাশরুম।

শনিবার (২২ জুন) দুপুরে অসিতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আধাপাকা টিনের ঘরে পলিথিন মোড়ানো প্যাকেট থেকে বেরিয়ে এসেছে সাদা মাশরুম। পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছিলেন তিনি।

এ সময় অসিত বলেন, আমি কৃষক পরিবারের ছেলে। কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ঢাকায় ১০ দিনের প্রশিক্ষণ নেই। পরে কৃষি অফিস থেকে চাষের উপকরণ, এমনকি মাশরুম দিয়ে চপ তৈরি করে সেগুলো বাজারে বিক্রির জন্য ভ্যান গাড়িতে দেওয়া হয়।

তিনি জানান, গতবার তারুণ্যের মেলায় মাশরুমের চপ বিক্রি করে সাড়ে তিন লাখ টাকা আয় করেছেন। বর্তমানে মাসে আয় করছেন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।

অসিতের সাফল্যে উৎসাহী হচ্ছেন অন্যরাও। স্থানীয় যুবক আরাফাত হোসেন বলেন, প্রতিদিন তার খামারে গিয়ে কাজ করি। শিখেছি অনেক কিছু। অল্প সময়ের মধ্যেই আমিও চাষ শুরু করব।

নড়াইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রোকনুজ্জমান বলেন, মাশরুম চাষ সম্পর্কে যে সম্মুখ ধারণা সেটা তিনি ট্রেনিংয়ে পেয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী তিনি মাশরুম চাষ শুরু করেছেন। তার সঙ্গে আরও ৩০ জন যারা ছোট ছোট উদ্যোক্তা আছেন, তারা একসঙ্গে কাজ করলে ওই এলাকাটা মাশরুম পল্লি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, মানুষ আগ্রহীভাবে মাশরুম ক্রয় করছে৷ তিনি মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। একইসঙ্গে অনলাইনে মাশরুম কেনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছে। আমি মনে করি তার দেখাদেখি যারা শিক্ষিত বেকার যুবক তারা মাশরুম চাষে আগ্রহী হলে আত্মকর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে নারী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এটি একটি ভালো সুযোগ।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, নড়াইলে ভোক্তাদের মধ্য ইতোমধ্যে একটা ভাল সাড়া ফেলেছে। যেহেতু বাজার সৃষ্টি হয়ে গেছে সেহেতু নড়াইল খুব দ্রুত এই চাষ সম্প্রসারিত হবে। আর মাশরুম চাষের মাধ্যমে যারা দরিদ্র জনগোষ্ঠী রয়েছে তারা ছোট জায়গায় কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে পারে। এরকম জনগোষ্ঠীকে আমরা একত্রিত করে দারিদ্র হ্রাসকরণে ভালো ভূমিকা রাখতে পারব।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : editordailymail@gmail.com, newsroom.dailymail@gmail.com
সম্পাদক: মো. জেহাদ হোসেন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top