shomoynew_wp969 ইভিএম বাতিল ও সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জাতীয় পার্টির প্রার্থীর | সারাবাংলা | Daily Mail | Popular Online News Portal in Bangladesh

শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩শে মাঘ ১৪৩২


ইভিএম বাতিল ও সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জাতীয় পার্টির প্রার্থীর


প্রকাশিত:
২৯ এপ্রিল ২০২৩ ০৯:৪৬

আপডেট:
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:১১

ছবি সংগৃহিত

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনকে (ইভিএম) অন্ধকার প্রকোষ্ঠ উল্লেখ করে বরিশাল সিটি করপোরেশনে এই পদ্ধতিতে নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস। সুষ্ঠু ভোটের নিশ্চয়তার জন্য সেনা মোতায়েনের কথাও বলেন তিনি।

শনিবার (২৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে একথা বলেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে তাপস বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হওয়ায় সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়নি এবং ভোটারেরা ভোট দিতে পারেনি। যার কারণে বিএনপিসহ অনেক দল আসন্ন সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েছে।

যেহেতু নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক পদ এজন্য আমরা এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে সুষ্ঠু ভোট হবে কিনা তা নিয়ে আমাদের সংশয় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ইভিএমে নির্বাচন চাই না, ব্যালট পেপারে নির্বাচন চাই। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদান করে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা হোক। যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে আসতে পারে এবং নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে।

যেহেতু ইভিএমে ব্যবহৃত সফটওয়্যারের উপর নির্বাচনের ফলাফল নির্ভর করে, তাই এই অংশের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে থাকবে তার পক্ষে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করা অত্যন্ত সহজ। প্রযুক্তিগতভাবে ইভিএম একটি দুর্বল যন্ত্র। এতে 'ভোটার ভেরিফাইড গেপার অডিট ট্রেইল' (ভিভিপিএটি) নেই, যার ফলে কমিশন ভোটের যে ফলাফল ঘোষণা করবে তাই চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং এটিতে স্বচ্ছভাবে পুনরায় গণনা বা নিরীক্ষা করার সুযোগ থাকে না।

প্রযুক্তির কারণে ইভিএম ব্যবহার করে ডিজিটাল জালিয়াতিও করা যায়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অন্তত দুইবার ফলাফল প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে, যা কেবল ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও আমাদের অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে যে, ইভিএম ব্যবহার করার কারণে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

নির্বাচন সংক্রান্ত আইনের প্রায়োগিক দিকের প্রধান শর্ত হচ্ছে পদ্ধতিটি হতে হবে স্বচ্ছ। এ কারণেই ভোটের প্রাক্কালে সব দলের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ব্যালট বাক্স খুলে দেখানো হয়। কিন্তু ইভিএম মেশিন হচ্ছে এমন একটি অন্ধকার প্রকোষ্ঠ যার ভেতরে আসলে কী আছে তা জানা সম্ভব নয়, যদি না এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সকলের সামনে উন্মুক্ত না করা হয়। জনমনে ইভিএম নিয়ে আস্থাহীনতা আছে, আগে সেটি দূর করতে হবে। অনেক দেশ ইভিএম থেকে সরে এসেছে।

তাপস বলেন, দেশের মানুষের সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর আস্থা। তাই ভোটারদের ভীতি দূর করতে, ভোট কেন্দ্র দখল, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সকল প্রকার অরাজক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন অত্যন্ত জরুরি এবং সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে দিতে হবে।

ইভিএমে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থাকার পরও কেন জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাচ্ছে প্রশ্নের জবাবে তাপস বলেন, জাতীয় পার্টি নির্বাচনমুখী দল। এজন্য স্বচ্ছতা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও সরকারকে সুযোগ দিতে চাই যাতে সরকার নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে পারে। ক্ষমতাসীন দলের বরিশালে তৎপরতা নিয়ে আমাদের নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই এই সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন কমিশনকে তা জানাতে চাই।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী সম্পর্কে তিনি বলেন, মনোনয়ন একই পরিবারে দেওয়া হয়েছে। এর আগে একজন ফেল করেছে, সেজন্য একই পরিবার থেকে আরেকজনকে পরীক্ষায় নামানো হয়েছে। আমি মনে করি জনগণ পরীক্ষক, এসব জনগণ বিচার করবেন।

ইকবাল হোসেন তাপস জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির আহ্বায়ক মহসিন উল ইসলাম হাবুলসহ নেতারা।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : editordailymail@gmail.com, newsroom.dailymail@gmail.com
সম্পাদক: মো. জেহাদ হোসেন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top