বৃহস্পতিবার, ২৬শে মার্চ ২০২৬, ১১ই চৈত্র ১৪৩২


‘মনে করো খেয়ে ফেলেছি’: অদ্ভুত নামের এই মসজিদ নির্মিত হয়েছে যেভাবে

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশিত:২৫ মার্চ ২০২৬, ১৯:০০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ইস্তাম্বুলের অলিগলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে উসমানীয় সাম্রাজ্যের রাজকীয় সব স্থাপত্য। তবে এই বিশাল সব মসজিদের ভিড়ে ফাতিহ জেলার একটি ছোট মসজিদ পর্যটকদের নজর কাড়ে তার নামের কারণে। মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা খাইরুদ্দিন এফেন্দি নামের একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। বিশাল কোনো অট্টালিকা বা সম্পদ না থাকলেও তার মনে সুপ্ত ইচ্ছা ছিল একটি মসজিদ নির্মাণের।

সপ্তদশ শতাব্দীতে যখন খাইরুদ্দিন এফেন্দি মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন, তখন তার আর্থিক সামর্থ্য ছিল খুবই সীমিত। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। তিনি নিজের রসনা তৃপ্তিকে বিসর্জন দেওয়ার এক অভিনব কৌশল বেছে নেন। বাজারে গিয়ে যখনই তার সুস্বাদু ফল, মাংস বা মিষ্টি কিনতে ইচ্ছে করত, তখনই তিনি নিজেকে বলতেন, ‘সানকি ইয়েদিম’ বা ‘মনে করো আমি খেয়ে ফেলেছি’।

এভাবে খাবারের সেই টাকাটি খরচ না করে তিনি একটি বাক্সে জমিয়ে রাখতেন। টানা ২০ বছর ধরে নিজের বিলাসিতা ও রসনা বিসর্জন দিয়ে তিনি যে অর্থ সঞ্চয় করেন, তা দিয়েই শেষ পর্যন্ত নির্মাণ করেন এই মসজিদ। তার সেই ত্যাগের বাক্যটিই কালক্রমে মসজিদের নাম হয়ে যায়।

ইতিহাসের বাঁকে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়েছে এই মসজিদটি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে উনকাপানি এলাকার এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৫৯ থেকে ১৯৬১ সালের মধ্যে তুরস্কের স্মৃতিস্তম্ভ রক্ষা কমিটির উদ্যোগে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় এটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে কংক্রিটের তৈরি এই মসজিদে একটি প্রধান গম্বুজ এবং চারটি ছোট গম্বুজ রয়েছে। একসঙ্গে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করতে পারেন।

মসজিদটির বর্তমান ইমাম আবদুল্লাহ কুতলুলুগলু জানান, এই মসজিদটি আমাদের ধৈর্য ও সঞ্চয়ের গুরুত্ব শেখায়। তিনি বলেন, আমরা যদি আজ আমাদের আয়ের সবটুকুই ভোগ করে ফেলি, তবে কাল হয়তো অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হবে। খাইরুদ্দিন এফেন্দি আমাদের শিখিয়ে গেছেন কীভাবে সামান্য সঞ্চয় থেকেও বড় কোনো জনহিতকর কাজ করা সম্ভব।

ইস্তাম্বুলের বড় বড় রাজকীয় মসজিদের মতো এই স্থাপনাটি খুব বেশি জাঁকজমকপূর্ণ না হলেও এর ভেতরের আত্মত্যাগের গল্প মানুষকে টানে। বর্তমানে আধুনিক সুউচ্চ ভবনের ভিড়ে হারিয়ে গেলেও ‘সানকি ইয়েদিম’ আজও মুসলিম উম্মাহর কাছে অদম্য সংকল্প আর ত্যাগের এক জীবন্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়