সপ্তাহের শুরুতেই যেসব আমলের পরিকল্পনা করবেন
প্রকাশিত:
৩০ আগস্ট ২০২৫ ১২:১৯
আপডেট:
৩০ আগস্ট ২০২৫ ১৮:২৬

জীবনকে সুন্দর করতে ও আল্লাহ তায়ালা প্রিয়পাত্র হতে প্রতিদিন কিছু আমল করা উচিত। সপ্তাহের শুরুতেই আমলে পরিকল্পনা করলে পুরো সপ্তাহ ভালো কাটবে এবং ধীরে ধীরে আমলের অভ্যাস হয়ে যাবে। এখানে এমন কিছু আমল তুলে ধরা হলো—
প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায়
পুরো সপ্তাহে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। রাসুল (সা.) বলেন—
আজান দেওয়া এবং প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর মধ্যে যে কী মর্যাদা আছে তা যদি মানুষ জানতে পারত, তাহলে তা পাওয়ার জন্য তারা প্রয়োজনবোধে লটারি করত। দুপুরের নামাজের যে মর্যাদা আছে তা যদি তারা জানতে পারত, তাহলে তারা এটা লাভ করার জন্য প্রতিযোগিতায় লেগে যেত। এশা ও ফজরের নামাজের মধ্যে যে (তাদের জন্য) কী মর্যাদা রয়েছে, তা যদি জানতে পারত, তাহলে তারা হামাগুঁড়ি দিয়ে হলেও এসে নামাজে উপস্থিত হতো।’ (মুসলিম, হাদিস : ৮৬৭)
জামাতে নামাজ আদায়ের ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, ‘জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়া একাকী নামাজ পড়ার চেয়ে ২৭ গুণ বেশি মর্যাদার।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৫, মুসলিম, হাদিস : ৬৪০)
সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা
সপ্তাহে দুই দিন অর্থাৎ সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। রাসুল (সা.) নিয়মিত এই আমল করতেন। সপ্তাহের এই দুই দিনের রোজার বিভিন্ন ফজিলত বর্ণিত হয়েছে হাদিসে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, সোমবার ও বৃহস্পতিবার আল্লাহর কাছে আমল উপস্থাপন করা হয়। তাই আমি রোজা থাকা অবস্থায় আমার আমল উপস্থাপন করা হোক— এটা পছন্দ করি।’(তিরমিজি, হাদিস : ৭৪৭; সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২৬৬৭)
প্রতি রাতে তাহাজ্জুদ আদায়
তাহাজ্জুদ আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রিয় আমল। যেই বান্দারা রাত জেগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন, তারা আল্লাহর প্রিয়।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়বে। এটা তোমার অতিরিক্ত দায়িত্ব। অচিরেই তোমার রব তোমাকে প্রশংসিত স্থানে প্রতিষ্ঠিত করবেন।’ (সূরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৭৯)
মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘রমজানের পর সর্বশ্রেষ্ঠ রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সর্বশ্রেষ্ঠ নামাজ হলো রাতের (তাহাজ্জুদের) নামাজ।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৬৩)
প্রতিদিনের দোয়া ও নফল ইবাদত
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আরেকবার ঘুমানো পর্যন্ত বিভিন্ন দোয়া রয়েছে। এই দোয়াগুলো সঠিকভাবে পড়া উচিত। এর মাধ্যমে প্রতিটি কাজে আল্লাহর ওপর ভরসা করা হবে এবং সব কাজে আল্লাহর রহমত লাভ হবে।
দান-সদকা
প্রতিদিন কিছু কিছু দান-সদকা করা উচিত। এর মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভ হয় এবং বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত থাকা যায়।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আর তারা আল্লাহর প্রতি তাদের ভালবাসার কারণে মিসকীন, ইয়াতীম ও কয়েদীকে খাবার খাওয়ায়। এবং বলে, শুধু আল্লাহর সস্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমরা তোমাদেরকে খাবার দান করি, আমরা তোমাদের কাছ থেকে প্রতিদান চাই না, কৃতজ্ঞতাও নয়। (সুরা দাহর, আয়াত : ৮-৯)
মহানবী (সা.) (সা.) বলেন, দান-সদকা গুনাহ এমনভাবে মিটিয়ে ফেলে যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে ফেলে। দান জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচায়। (বুখারি ও মুসলিম)
কোরআন তিলাওয়াত
সপ্তাহের প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে কোরআন তিলাওয়াত করা উচিত। এর মাধ্যমে সহজে আল্লাহ তায়ালার প্রিয় হওয়া যায়।
হাদিসে কোরআন তিলাওয়াতকারীকে আল্লাহ পরিজন বলা হয়েছে। আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, কিছু মানুষ আল্লাহর পরিজন। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল, তারা কারা? তিনি বলেন, কোরআন তেলাওয়াতকারীরা আল্লাহর পরিজন এবং তার বিশেষ বান্দা।’(ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২১৫)
সালাম দেওয়া
প্রতিদিন সবাইকে সবার আগে সালাম দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন—
তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর যতক্ষণ না তোমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা গড়ে উঠবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা প্রকৃত ঈমানদার হতে পারবে না। আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি কাজ বলে দেব না, যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালবাবে? (তা হচ্ছে) তোমরা আপোসের মধ্যে সালাম প্রচার কর।’ (মুসলিম, হাদিস : ৫৪; তিরমিজি, হাদিস : ২৬৮৮)
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: