‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, উন্নয়ন সহযোগী’
মোদি-শি বৈঠক, সীমান্তে শান্তি ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে একমত
প্রকাশিত:
৩১ আগস্ট ২০২৫ ১৮:০৮
আপডেট:
১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০০:১৬

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তিয়ানজিনে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শনিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুই নেতা সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা, দুদেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক শক্তিশালী করা এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন।
রোববার (৩১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের সম্পর্ককে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, উন্নয়ন সহযোগী’ হিসেবে দেখার প্রতিশ্রুতি দেন মোদি ও শি। তারা জোর দিয়ে বলেন, ভিন্নমত যেন কখনও দ্বন্দ্বে রূপ না নেয়।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দেন এবং এ ক্ষেত্রে গত বছরের সফল সেনা প্রত্যাহারকে স্বাগত জানান। দুই নেতা সীমান্ত সমস্যার ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে বিশেষ প্রতিনিধিদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেন।
জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে সরাসরি ফ্লাইট ও ভিসা সহজীকরণের কথা উল্লেখ করেন তারা। এছাড়া কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রা ও পর্যটক ভিসা পুনরায় চালুর বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
বাণিজ্য প্রসঙ্গে দুই নেতা জানান, বিশ্ব বাণিজ্য স্থিতিশীল রাখতে ভারত ও চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক বিবেচনায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
মোদি বলেন, ভারত ও চীন উভয়েই কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন মেনে চলে এবং তাদের সম্পর্ককে কোনো তৃতীয় দেশের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও ন্যায্য বাণিজ্যের মতো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতেও সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপারে একমত হন দুই নেতা।
এছাড়া মোদি চীনের এসসিও সভাপতিত্বকে সমর্থন জানান এবং ২০২৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে শি-কে আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে শি ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বে সমর্থন দেওয়ার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো স্থায়ী কমিটির সদস্য চাই চি-র সঙ্গেও দেখা করেন মোদি। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তার সহযোগিতা চান। চাই চি জানান, দুই দেশের নেতাদের সমঝোতার ভিত্তিতে চীনও সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: