shomoynew_wp969 ইরানের ৩ পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলা নিয়ে যা জানা গেল | আন্তর্জাতিক | Daily Mail | Popular Online News Portal in Bangladesh

শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩শে মাঘ ১৪৩২


ইরানের ৩ পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলা নিয়ে যা জানা গেল


প্রকাশিত:
২২ জুন ২০২৫ ০৪:২৫

আপডেট:
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৪৬

ছবি সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছে। যা ইরান-ইসরায়েল চলমান সংঘাতের মধ্যে উত্তেজনা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

হামলার পরপরই ইরানি কর্তৃপক্ষ একাধিক বিবৃতি ও পদক্ষেপের মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। আঘাতপ্রাপ্ত স্থাপনাগুলো হলো- ফোরদো, নাতান্জ ও ইসফাহান।

এক সংক্ষিপ্ত টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প বলেন, মনে রাখবেন, এখনও অনেক টার্গেট বাকি। সেগুলোর মধ্যে আজ রাতের টার্গেট ছিল সবচেয়ে কঠিন, আর সম্ভবত সবচেয়ে প্রাণঘাতী। যদি দ্রুত শান্তি না আসে, আমরা নির্ভুল নিশানা, গতি এবং দক্ষতায় অন্য লক্ষ্যগুলোতেও আঘাত করব।

জানা গেছে, শনিবার রাতের হামলার লক্ষ্যগুলোর একটি ছিল ফোর্দো, ইরানের দূরবর্তী পাহাড়ি এলাকার ভেতর লুকানো একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মাত্রা এখনও জানা যায়নি।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলার পরিকল্পনায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘পূর্ণ সমন্বয়’ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র শনিবার কূটনৈতিকভাবে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছে, তাদের পরিকল্পনা বিমান হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং তারা ‘সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা’ করছে না। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে সিবিএস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

এই ঘটনায় পাল্টা হুংকার এসেছে ইরানের দিক থেকেও। এক বিবৃতিতে ইরানের পারমাণবিক সংস্থা (AEOI) বলেছে, ‘আজ ভোরে ফোরদো, নাতান্জ ও ইসফাহানের স্থাপনাগুলোতে শত্রুর বর্বরোচিত হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও বিশেষভাবে পারমাণবিক অস্ত্র না ছড়ানোর চুক্তি (NPT)-এর সরাসরি লঙ্ঘন।’

তারা আরও দাবি করেছে, ‘এই আক্রমণ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর নিষ্ক্রিয়তা ও অংশগ্রহণের ছায়ায় সংঘটিত হয়েছে, যা নিন্দনীয়।’

ইরান পাল্টা জবাবে ওই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে টার্গেট করতে পারে। ইরান আগেই সতর্ক করেছিলো, যেকোনো মার্কিন হামলা আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়াবে এবং ইরান এর উচিত জবাব দেবে।

ইরান ইসরায়েল সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে এখন পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে—

কীভাবে নতুন সংঘাতের শুরু?

গত ১৩ জুন ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে আকস্মিক হামলা চালায় ইসরায়েল। ইসরায়েলের দাবি, তাদের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মতে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে ইরান খুব শিগগিরই পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে সক্ষম হবে। এদিকে ইসরায়েলের হামলার জবাবে তেহরানও ইসরায়েলের দিকে শত শত রকেট ও ড্রোন ছুঁড়েছে।

তারপর থেকে দুই দেশ একে অপরের ওপর দফায় দফায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, এবং আকাশপথে এই হামলা-পাল্টা-হামলার আজ ১০ম দিনেও সংঘাত থামেনি, বরং এক অনিশ্চিত রূপ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র কোথায় বোমা ফেলেছে, আর কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছে?

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত করেছে। সেগুলো হলো- ফোর্দো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহান।

ফোর্দো হল ইরানে পাহাড়ের ভেতরে লুকানো স্থাপনা, যা তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত। ধারণা করা হয়, এর অবস্থান ভূপৃষ্ঠ থেকে এতো গভীরে যে এটি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে যুক্ত করা চ্যানেল টানেলের চেয়েও নিচে।

ফোর্দোর এই পারমানবিক স্থাপনা ভূপৃষ্ঠ থেকে গভীরে থাকার কারণে ইসরায়েলের অস্ত্র দিয়ে এটি ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা ‘বাংকার বাস্টার’ নামে একটি শক্তিশালী বোমা আছে যা ফোর্দো ধ্বংস করতে পারে। এই মার্কিন বোমার নাম জিবিইউ-৫৭ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর (এমওপি) যার ওজন ১৩ হাজার কেজি এবং এটি বিস্ফোরণের আগে প্রায় ১৮ মিটার কংক্রিট বা ৬১ মিটার মাটি ভেদ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

মার্কিন কর্মকর্তারা সিবিএস-কে নিশ্চিত করেছেন, এই হামলায় এমওপি ব্যবহার করা হয়েছে, এবং প্রতিটি লক্ষ্যবস্তুর জন্য দুটি করে বোমা ফেলা হয়েছে।

ইরানে কী প্রভাব পড়েছে?

যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলায় পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কী না– তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমের উপ-রাজনৈতিক পরিচালক হাসান আবেদিনি বলেছেন, ইরান কিছু দিন আগেই এই তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা খালি করে ফেলেছিল।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি আরও বলেন, ইরান বড় কোনো ক্ষতির শিকার হয়নি, কারণ সেগুলোতে থাকা উপকরণ আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

তবে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ও সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিবিসি নিউজ চ্যানেলে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাজনীতি ও সামরিক বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক কিমিট বলেন, ‘চিরতরে ধ্বংস হয়েছে, এমনটা বলার সুযোগ নেই।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, মার্কিন হামলার পর ইসরায়েল তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। ইসরায়েল সারা দেশে জননিরাপত্তা বিধিনিষেধ কঠোর করেছে। নতুন বিধিনিষেধের মধ্যে ‘শিক্ষা কার্যক্রম, জমায়েত এবং কর্মস্থলে যাওয়া’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা ইরানে মার্কিন হামলার পরপরই কার্যকর হয়েছে।

ইরান কীভাবে পাল্টা জবাব দিতে পারে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েল এরই মধ্যে ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলোয় আঘাত হেনে তাদের যথেষ্ট দুর্বল করে ফেলেছে। এবং ইরানের আঞ্চলিক মিত্র যেমন লেবাননের হেজবুল্লাহ একইসঙ্গে সিরিয়ায় এবং গাজায় হামাসকে অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছে। তবুও ইরান এখনো বড় ধরনের ক্ষতি করার সক্ষমতা রাখে।

ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে এ সংঘাতে না জড়াতে আহ্বান করেছিলেন, তারা বলেছিলেন, তাতে ‘অশেষ ক্ষতি’ হবে এবং ‘পূর্ণ যুদ্ধের’ ঝুঁকি তৈরি হবে। ফলে যুদ্ধ গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ইরান হুমকি দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে জড়ালে তারা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে টার্গেট করবে। মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত ১৯টি অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। যেমন- বাহরাইন, মিশর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। সবচেয়ে স্পষ্ট টার্গেটগুলোর মধ্যে একটি হলো মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের সদর দপ্তর, যেটি বাহরাইনের মিনা সালমানে অবস্থিত।

তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালীতে আঘাত করতে পারে। এটি পারস্য উপসাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং এই পথ দিয়ে বিশ্বের ৩০ শতাংশ তেল পরিবহণ হয়।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : editordailymail@gmail.com, newsroom.dailymail@gmail.com
সম্পাদক: মো. জেহাদ হোসেন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top