রবিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০ই ফাল্গুন ১৪৩২
ফাইল ছবি
গেল কয়েকবার ধরে রমজান মাসে তরমুজের মৌসুম শুরু হয়ে গেলেও এবার বাজারে এখনও তরমুজ তেমন উঠতে শুরু করেনি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১৫/২০ রমজান থেকে বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে তরমুজ আসতে শুরু করবে।
তবে এখন কয়েক জাতের তরমুজ আছে যেগুলো পুরো বছরজুড়ে উৎপাদন হওয়া তরমুজ এবং সিলেটের। এগুলো মূলত তেমন সুস্বাদু নয়। যদিও এই তরমুজগুলো বাজারে উঠেছে। তবে প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা দাম হওয়ায় বিক্রি কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মূল মৌসুম শুরু হলে তরমুজের সরবরাহ, বিক্রি বাড়বে। এখন তরমুজের ক্রেতা বিক্রেতা দুটোই কম।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন ফলের দোকান ঘুরে তরমুজ বিক্রির এমন চিত্র দেখা গেছে।
রাজধানীর রামপুরায় একটি ফলের দোকানে রাখা তরমুজের দরদাম করছিলেন একজন ক্রেতা। দাম শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়ে ক্রেতা বেসরকারি চাকরিজীবী খোরশেদ আলম বললেন, আর কয়েকদিন পরেই কিনব। পরে কথা হয় খোরশেদ আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, দোকানে সাজানো দেখে শখ করে দাম জিজ্ঞেস করলাম। বিক্রেতা বলল প্রতি কেজি ১০০ টাকা। পরে অবশ্য ১০ টাকা কমিয়ে ৯০ টাকায় দিতে চেয়েছে। একটা ছোট্ট তরমুজ কিনলেও দাম পড়ে যাবে অনেক।
তিনি বলেন, আসলে তরমুজের এখনো মৌসুম শুরু হয়নি, বাজারে আসতে শুরু করেনি মৌসুমের তরমুজ। এখন যেসব তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর টেস্ট তেমন নেই। সাধারণ মানুষ এত টাকা দিয়ে তরমুজ কিনে খেতে চাইবে না। যে কারণে ফুটপাতে বা দোকানে তরমুজ খুব কম বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। এত দাম দেখে আমিও কিনলাম না, মৌসুম শুরু হবে তখন কিনে খাব।
গুলশান বাড্ডা লিংক রোডের ফুটপাতে সারি সারি সাজানো ছিল ছোট-বড় তরমুজ। সেখানেও ক্রেতাদের খুব একটা ভিড় নেই। অফিস ফেরত মানুষেরগুলোর মধ্যে দুই-এক জন বিক্রেতার কাছে আম সম্পর্কে জানতে চাইছেন, কিন্তু তরমুজের ক্রেতার সংখ্যা খুব একটা নেই বললেই চলে। তরমুজের দাম জানতে চাওয়া এমন আরেক ক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, আসলে এখন তরমুজ পরিপক্ব নয়, আর যেসব বারোমাসি তরমুজ আছে সেগুলো খেতে সুস্বাদুও নয়, এর সঙ্গে দাম বেশি। সব মিলিয়ে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের এখন তরমুজ কেনার আগ্রহ সেভাবে নেই। তবে কিছুদিন পর থেকে হয়ত বা তরমুজের মৌসুম শুরু হবে, তখন আমরা কিনতে পারব বলে আশা করছি।
গুলশান বাড্ডা লিংক রোডের ফুটপাতে তরমুজ বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে তরমুজ কিনে এনেছিলাম। রমজানে মানুষ প্রচুর পরিমাণে তরমুজ কিনবে বলে ধারণা ছিল, কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে বর্তমানে তরমুজের ক্রেতা একেবারে নেই বললেই চলে। বিক্রেতা যেমন কম তেমনি ক্রেতার সংখ্যাও অনেক কম।
তিনি বলেন, বাজারে বর্তমানে সিলেটের তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা বিক্রি করছি প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। দাম একটু বেশি হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ এখনো তরমুজ সেভাবে কিনতে শুরু করেনি। বাজারে এখন ১২ মাসে ফলন হওয়া তরমুজ, সিলেটের তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে। ১৫ রমজান থেকে ২০ রমজানের মধ্যে বাজারে মৌসুমের তরমুজ আসতে শুরু করবে। তখন প্রচুর পরিমাণে সরবরাহ হবে, সেই সময়েই বিক্রেতা যেমন বেড়ে যাবে, ক্রেতার সংখ্যাও তেমনি বাড়তে থাকবে। মূলত রমজানের ওই সময়ে তরমুজের মূল ব্যবসা হবে। এখন বর্তমানে বেশি দাম, মৌসুমের তরমুজ না আসায় বিক্রি অনেক কম।
গুলশান ডিসিসি মার্কেট সংলগ্ন বাজার থেকে অন্যান্য ফলমূলের সঙ্গে একটি তরমুজ কিনেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী আফতাব উদ্দিন। তিনি বলেন, আসলে এখন তরমুজ সেভাবে মানুষ কিনছেও না, বিক্রেতারা বিক্রি করতে পারছে না। ৯০ টাকা কেজি দরে ৫ কেজি ওজনের একটি তরমুজ নিয়েছি বলতে গেলে বাধ্য হয়ে। আমার ছোট্ট মেয়ে তরমুজের জুস খেতে চেয়েছে ইফতারিতে। মূলত সে কারণেই তরমুজ কিনেছি, এত দামে অসময়ের তরমুজ কিনার পক্ষে ছিলাম না। আমার মতো অন্যরাও তেমনভাবে তরমুজ কিনছে না। মনে হচ্ছে কিছুদিন পরে তরমুজের মৌসুম হলে সেই তরমুজের টেস্ট যেমন বাড়বে, তেমনি দামও কম থাকবে তুলনামূলক। সেই সময়ই আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি তরমুজ কিনতে পারবে।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)