রবিবার, ২৯শে মার্চ ২০২৬, ১৫ই চৈত্র ১৪৩২
ফাইল ছবি
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্থল সেনাদের ইরানে আসার অপেক্ষায় আছে তাদের সেনারা। তিনি বলেছেন, তাদের সেনারা প্রস্তুত আছে মার্কিন সেনারা আসলেই তাদের জ্বালিয়ে দেবে।
রোববার (২৯ মার্চ) বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, স্পিকার বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে। আর গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে।
তিনি বলেছেন, “শত্রুরা প্রকাশ্যে আলোচনার বার্তা দিচ্ছে। অপরদিকে গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে। আমাদের সেনারা মার্কিন সেনাদের জ্বালিয়ে দিতে তাদের আসার অপেক্ষায় ময়দানে আছে।”
এরআগে রোববার সকালে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগেরদিন গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানায় ইউএসএস ত্রিপোলী উভচর যুদ্ধজাহাজে করে সাড়ে তিন হাজার মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে এসে পৌঁছেছে।
ইরানে স্থল হামলা হলে কিভাবে শুরু হতে পারে?
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থল হামলার সবচেয়ে বড় লক্ষ্যবস্তু হতে পারে খার্গ দ্বীপ। ৯ স্কয়ার মাইলের চেয়েও ছোট এ দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এই দ্বীপ থেকেই নিজেদের ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করে তেহরান। যদি ইরান দ্বীপটি হারায় তাহলে এটি দেশটির সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হবে।
সংবাদমাধ্যমটি আরও বলেছে, ইরাক ও আফগানিস্তানে স্থল হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ সেনা জড়ো করছিল, এখন ইরানে স্থল হামলার প্রস্তুতিতে তার চেয়ে কম সেনা এনেছে দেশটি।
মার্কিন সেনারা যদি খার্গ দ্বীপ দখল করতে যান তাহলে তাদের ড্রোন, কামান এবং রকেট হামলার মুখোমুখি হতে হবে। এছাড়া এই দ্বীপের কাছাকাছি নোঙর করতে মার্কিন সেনাদের অন্তত একদিন সময় লাগবে। ইরান বিষয়টি জানতে পারলে দ্বীপ ও ওই অঞ্চলের আশপাশে দ্রুত মাইন স্থাপন করতে পারবে।
এমনকি মার্কিনিরা যদি দ্বীপটি দখল করেও; তাহলে ইরানের অব্যাহত হামলার মুখে তারা ‘কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের আগে বা যুদ্ধবিরতির আগে বা ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলতে বাধ্য করার আগ পর্যন্ত’ কতদিন এটি দখলে রাখতে পারবে সেই প্রশ্নও আছে।
খার্গ দ্বীপের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য জায়গাতেও স্থল হামলার চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত দ্বীপগুলোতে। যার লক্ষ্য থাকবে তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ খুলে দেওয়া।
সম্ভাব্য হামলার মধ্যে থাকতে পারে কাশেম দ্বীপ। এটি পারস্য উপসাগরের সবচেয়ে বড় দ্বীপ। তবে ৫৬০ স্কয়ার মাইলের দ্বীপটি মার্কিন সেনাদের জন্য দখল করা এত সহজ হবে না।
এই দ্বীপে ইরানি বাহিনী অ্যাটাক ক্রাফট, ড্রোন এবং সামুদ্রিক মাইন রেখেছে।
আরেকটি সম্ভাব্য হামলাস্থল হতে পারে লারাক। এই স্থানটিতে ইরান অস্ত্র রেখেছে। এসব অস্ত্র দিয়েই হরমুজ প্রণালির অবরোধ অব্যাহত রাখা হয়েছে। এটির পাশাপাশি আবু মুসা দ্বীপেও হামলা হতে পারে।
গার্ডিয়ান বলেছে, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে যেসব সেনা পাঠাচ্ছে তাদের আরেকটি দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সেটি হলো, ইরানের ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধকরণকৃত ইউরেনিয়াম স্থল অভিযান চালিয়ে নিয়ে আসা। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলার পর ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধকরণকৃত ইউরেনিয়াম ‘নিখোঁজ’ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা রয়েছে, বিশাল আকাশ অভিযান চালিয়ে এই ইউরেনিয়ামগুলো নিয়ে আসা।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)