বৃহস্পতিবার, ১৯শে মার্চ ২০২৬, ৪ঠা চৈত্র ১৪৩২


পরমাণু অস্ত্র ইস্যুতে ইরানের অবস্থান এখনও অনড় : আরাগচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত:১৮ মার্চ ২০২৬, ১৫:০৫

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার ব্যাপারে ইরানের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “আমাদের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা পরমাণু অস্ত্র বা ব্যাপক প্রাণঘাতী অস্ত্র তৈরির বিরুদ্ধে ছিলেন। এ ইস্যুতে ২০০০ সালের দিকে ফতোয়া জারি করেছিলেন তিনি। আমরা সেই ফতোয়া এখনও মেনে চলছি।”

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল গত দু’দশক ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ইরান ‘শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি’র আড়ালে পরমাণু বোমা তৈরি করছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যে যুদ্ধ চলছে, সেটিও ইরানের ‘শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি’ ঘিরেই।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইরানের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইতেমধ্যে ইরানে নিহত হয়েছেন ২ হাজারের বেশি মানুষ।

তবে সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে ইরান। নতুন সর্বোচ্চ নেতা পরমাণু অস্ত্র তৈরির ইস্যুতে তার পিতাকে অনুসরণ করবেন কি-না— এ প্রশ্নও সৈয়দ আরাগচিকে করেছিল আলজাজিরা এবং বেশ সতর্কতার সঙ্গে তার উত্তর দিয়েছেন তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, “যে কেনো ফতোয়ার কার্যকারিতা নির্ভর করে সেটি কোন ইসলামি আইনবিদ জারি করেছেন, তার ওপর। নতুন সর্বোচ নেতার আইনগত বা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিচার করার মতো অবস্থানে আমি এখন নেই।”

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়