মঙ্গলবার, ১০ই মার্চ ২০২৬, ২৬শে ফাল্গুন ১৪৩২
ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলোমান যুদ্ধের প্রভাবে বাড়তে থাকা জ্বালানি তেলের দাম মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র কিছু তেল-সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার ফ্লোরিডায় এক সংবাদসম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিছু দেশের ওপর আমাদের নিষেধাজ্ঞা আছে। পরিস্থিতি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেব’।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘তারপর, কে জানে? হয়তো আর নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে না—এতটাই শান্তি থাকবে”।
তবে তিনি বিস্তারিত বলেননি কোন নিষেধাজ্ঞা—বা কোন দেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যাতে ভারত সমুদ্রপথে আটকে থাকা রুশ তেল কিনতে পারে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ করায় ইরানকেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তিনি সরাসরি বলেন, ‘তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে গোটা বিশ্বকে বন্দি করার কথা ভাবছে ইরানের সন্ত্রাসী সরকার। এর ফল ভুগতে হবে।’
মূলত, তেলের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রেই প্রবল চাপের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। চলতি বছরেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যবর্তী নির্বাচন আছে। তার আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, ‘এই মূল্যবৃদ্ধি স্বল্পমেয়াদি। যুদ্ধ শেষ হলেই দাম আবার কমে যাবে।’
একই সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ‘খুব ভালো একটি ফোনালাপ করেছেন।
তিনি বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে এক ঘণ্টার মতো কথা হয়েছে, তিনি মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত নিরসনে সহায়তা করতে ইচ্ছুক।
এদিকে রুশ প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইউরি উশাকফ দেশটির গণমাধ্যমকে জানান, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেই আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আলোচনায় মূল গুরুত্ব দেওয়া হয় ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ইউক্রেন সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ওপর।
তিনি আরও জানান, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধে দ্রুত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কেও ট্রাম্পকে অবহিত করেন পুতিন।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)