মঙ্গলবার, ১০ই মার্চ ২০২৬, ২৬শে ফাল্গুন ১৪৩২
ফাইল ছবি
ইরানের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বলেছেন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে যাবে ইরান এবং যতদিন প্রয়োজন হয়, ততদিন হামলা অব্যাহত থাকবে।
গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে চলেছে। ট্রাম্পের এই সংবাদসম্মেলনের কিছু সময় পর মার্কিন সংবাদামাধ্যম পিবিএস নিউজকে সাক্ষাৎকার দেন সৈয়দ আরাগচি। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “গোলাগুলি অব্যাহত আছে এবং আমাদেরও পূর্ণ প্রস্তুতি আছে। যতক্ষণ প্রয়োজন হয়, আমরা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে শত্রুদের ওপর আঘাত হানতে প্রস্তুত আছি। এতে যতদিন লাগে, লাগুক।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনায় যেতে তেহরান আর আগ্রহী নয় বলেও সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, “মার্কিনিদের সঙ্গে এর আগেও কয়েকবার আমরা সংলাপে বসেছি। সেসব অভিজ্ঞতা খুবই তিক্ত। আমরা আর সেসব অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি চাই না। (যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে) আলোচনা আর আমাদের এজেন্ডার তালিকায় নেই।”
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।
তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।
যুদ্ধের প্রথম দিন ২৮ অক্টোবর নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-সহ ইরানের অন্তত ৪০ জন সামরিক ও বেসামরিক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিমান অভিযান চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল। ইরানের জ্বালানি কাঠামো এবং কয়েকটি জ্বালানি তেলের ডিপো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
পিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৈয়দ আরাগচি দাবি করেছেন, যে লক্ষ্য নিয়ে ইরানে অভিযান ূমরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল— তা ইতোমধ্যে ব্যর্থ হয়েছে।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)