shomoynew_wp969 Daily Mail | Print

42624

02/04/2026 পুলিশ হেফাজতে নদীতে রাখা হয়েছে ৩১টি গরু, একের পর এক মৃত্যু

পুলিশ হেফাজতে নদীতে রাখা হয়েছে ৩১টি গরু, একের পর এক মৃত্যু

জেলা সংবাদদাতা,সুনামগঞ্জ

৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১২:১৫

চোরাই গরু সন্দেহে আটক করা ৩১টি গরুকে থানায় না রেখে নদীতে ভাসমান অবস্থায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। থানায় রাখলে গরু চুরি হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ। তবে পুলিশের এই সিদ্ধান্তের ফলে তীব্র শীত, অপর্যাপ্ত খাবার ও অবহেলার কারণে একের পর এক গরুর মৃত্যু হচ্ছে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ ডিসেম্বর সুরমা নদীতে অভিযান চালিয়ে একটি নৌকাসহ ৩১টি গরু আটক করা হয়। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গরুগুলোর পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পুলিশের ওপর থাকলেও সেগুলো থানায় বা কোনো ফাঁড়িতে না রেখে নদীতে রাখা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তীব্র শীতে পানির ওপর দীর্ঘ সময় ভাসমান অবস্থায় থাকার কারণে অন্তত ছয়টি গরুর মৃত্যু হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, মৃত গরুর সংখ্যা নয় থেকে দশটির কম নয়। অভিযোগ রয়েছে রাতের আঁধারে মৃত গরুগুলো নদীতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি গরুগুলোর প্রকৃত অবস্থা দেখতে গেলেও স্থানীয়দের বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তারা।

গরুগুলো দেখভালের জন্য একজন স্থানীয় যুবককে নিয়োগ দেওয়ার কথা জানানো হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই যুবকের বকেয়া পাওনা পাঁচ হাজার টাকার বেশি। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি নিজের পকেটের টাকা খরচ করে গরুর খাবার কিনছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। খাবারের পরিমাণ নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ৩১টি গরুর জন্য মাত্র ১০ কেজি ভুসি দিয়ে কয়েকদিন চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি রতন শেখ বলেন, আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত গরুগুলো নদীতেই থাকবে। এখন গরু মারা গেলে কিছুই করার নেই।

অন্যদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, ওসি যদি বলেন গরু চুরি হয়ে যাবে, এটা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা নয়। গরুগুলোর মৃত্যু ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।

সম্পাদক: মো. জেহাদ হোসেন চৌধুরী
যোগাযোগ: রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল: editordailymail@gmail.com, newsroom.dailymail@gmail.com