shomoynew_wp969 Daily Mail | Print

35270

02/05/2026 অবৈধ বালু উত্তোলনে গ্রামবাসীর ধাওয়া, ড্রেজারে আগুন

অবৈধ বালু উত্তোলনে গ্রামবাসীর ধাওয়া, ড্রেজারে আগুন

জেলা সংবাদদাতা, মুন্সীগঞ্জ

৩০ জুলাই ২০২৫ ০৭:১৮

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের কালিরচর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীর পাড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর প্রতিরোধ দেখা গেছে। বুধবার (৩০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে গ্রামবাসী বালু উত্তোলনকারীদের ধাওয়া দিলে দুইটি ড্রেজারে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। যদিও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, সরকারি অনুমোদিত বালু মহালের সীমানা ছাড়িয়ে কালিরচর মৌজার ভেতর, ফসলি জমি ও বসতবাড়ির কাছে বালু তুলছিলেন ইজারাদারদের লোকজন। স্থানীয় বাসিন্দা খলিল মিজি বলেন, “বালুর মহাল ভাসানচর মৌজায়, কিন্তু ওরা কাটছে কালিরচরের জমি। এখানে তিন ফসলি জমি রয়েছে। এ জমি রক্ষা করতে গ্রামবাসী বাধা দিয়েছে।”

বিক্ষুব্ধদের দাবি, কিবরিয়া মিজি, জিএস মনির এবং বাচ্চু মেম্বার—এই তিনজন নেতৃত্ব দিচ্ছেন অবৈধ উত্তোলনে। একজন নারী বাসিন্দা রিনা বেগম বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। বাড়িঘর ভেঙে গেলে কোথায় থাকব? যারা বালু কাটে তারা বড়লোক, আমাদের কথা কেউ শোনে না।”

ঘটনার পরপরই অভিযান চালায় প্রশাসন। দুইজন ড্রেজার শ্রমিক—আব্দুর রহমান ও মো. জাকিরকে আটক করা হয়। পরে তাদের দুই লাখ টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম হাসানুর রহমান বলেন, “বালু মহালের অনিয়ম নিয়ে আমরা অভিযানে গিয়েছিলাম। দুজনকে জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও আইন অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চরআব্দুল্লাহ নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহবুব আলম বলেন, “ভাঙন প্রতিরোধে আমরা তৎপর আছি। নদী ঘেঁষে অনিয়ম হলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগ অস্বীকার করে বালু মহালের ইজারাদার জিএস মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “আমরা প্রশাসনের দেওয়া বৈধ সীমানার মধ্যেই উত্তোলন করছি। গ্রামের লোকজন অহেতুক উত্তেজনা ছড়াচ্ছে।”

তবে গ্রামবাসী বলছেন, বাস্তবতা ভিন্ন—নদীর তীরবর্তী তাদের ফসলি জমি ঝুঁকিতে। একাধিকবার মৌখিক অভিযোগ করলেও কাজ হয়নি।

ডিএম /সীমা

সম্পাদক: মো. জেহাদ হোসেন চৌধুরী
যোগাযোগ: রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল: editordailymail@gmail.com, newsroom.dailymail@gmail.com