বুধবার, ৪ঠা মার্চ ২০২৬, ২০শে ফাল্গুন ১৪৩২


কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি : যে কারণে পেছাল মামলার রায়

আদালত প্রতিবেদক

প্রকাশিত:৪ মার্চ ২০২৬, ১৭:০৮

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নির্ধারিত রায় ঘোষণা পেছানোর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ ব্যাখ্যা করেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মামলার যেকোনো পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বাদ পড়ে গেলে তা অ্যাডিশনাল এভিডেন্স হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে প্রসিকিউশনের। ট্রাইব্যুনাল আইনই এ সুযোগ দিয়েছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, এই ট্রাইব্যুনালে যোগদানের পর আমি প্রত্যেকটি মামলা আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। যেসব মামলার তদন্ত সঠিকভাবে হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, সেগুলো স্ব স্ব প্রসিকিউটরদের সেভাবে চালানোর নির্দেশ দিচ্ছি। যেগুলোর তদন্ত মনে হচ্ছে আবারও হওয়া উচিত, সেগুলো সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিচ্ছি।

তিনি বলেন, মামলাটি আমার যোগদানের আগেই রায়ের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু মামলাটি পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখি আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের একটি ভিডিও রেকর্ডিং রয়েছে, যেখানে তিনি কীভাবে গুলি করেছেন, কার নির্দেশে করেছেন- সেসব বিষয়ে সরাসরি স্বীকার করছেন। অত্যন্ত শক্তিশালী এই প্রমাণটি এভিডেন্সে আনা হয়নি। এজন্য এটি আমাদের দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বিষয়টি সম্প্রতি নজরে এসেছে। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করা হয়েছে, যেন ভিডিওটি মামলায় সংযুক্ত করে উপস্থাপন করা যায়। এজন্য চার সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছেন।

শুরু থেকেই সাক্ষ্যগ্রহণের প্রয়োজন হবে কিনা জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সাক্ষ্যগ্রহণ প্রয়োজন হবে না। এটা আমরা যদি টেন্ডার করি, তাহলে সরাসরি এভিডেন্সে দিতে পারবো। ডিফেন্সকে শুধু আমাদের নোটিশ দিলেই হবে।

গাফিলতি কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নে আমিনুল ইসলাম বলেন, এটা গাফিলতি নয়। ত্রুটি-বিচ্যুতি হতে পারে। এভিডেন্সটা হয়তো তখন ছিল না। যেহেতু বিষয়টি আমার কাছে আসছে, এজন্য তাৎক্ষণিকভাবে মনে হলো এভিডেন্সটা উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

এ মামলায় মোট আসামি পাঁচজন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। তাকে আজ সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

পলাতকরা হলেন- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলন চলাকালীন প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে থাকা একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন আমির হোসেন নামের এক তরুণ। ওই সময় পুলিশ সদস্যরাও তার পিছু পিছু যান। একপর্যায়ে ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও তার ওপর ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন এক পুলিশ সদস্য। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। এছাড়া একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে মারা যান নাদিম ও মায়া ইসলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর হাবিবসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একই বছরের ৭ আগস্ট ফর্মাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়