মঙ্গলবার, ১৪ই এপ্রিল ২০২৬, ৩০শে চৈত্র ১৪৩২
ছবি সংগৃহীত
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) একটি সাধারণ রোগ যা নারী হরমোনকে প্রভাবিত করে। PCOS নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসার জন্য খাদ্যাভ্যাস এবং ফিটনেস পর্যবেক্ষণ করা অপরিহার্য। রোজা পালনের সময় শক্তি এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য সাহরি এবং ইফতারের সময় সচেতনভাবে খাবার বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
PCOS-এর ক্ষেত্রে রোজার সময় সঠিক খাবার বেছে নেওয়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে, প্রদাহ প্রতিরোধ করতে এবং সারাদিন উজ্জীবিত রাখতে সাহায্য করবে। ফাইবার সমৃদ্ধ ফল থেকে শুরু করে প্রোটিন-প্যাকড খাবার পর্যন্ত, এই প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো স্বাস্থ্য ভালো এবং খাবারের প্রস্তুতি সহজ করবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, PCOS মোকাবিলায় রোজায় কোন খাবারগুলো খাবেন-
১. বেরি
ব্লুবেরি, রাস্পবেরি এবং স্ট্রবেরির মতো কম গ্লাইসেমিক ফল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। তাই সাহরি ও ইফতারে এ ধরনের ফল বেছে নিন। এতে আপনার PCOS এর সঙ্গে লড়াই করা সহজ হবে।
২. ডাবের পানি
ডাবের পানির অনেক উপকারিতার কথাই আমরা জানি। এটি একটি প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট উৎস যা পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করে এবং শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি করে। রোজায় ডাবের পানি পান করলে তা অনেকভাবেই আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে। সেইসঙ্গে সাহায্য করবে PCOS মোকাবিলায়ও।
৩. অলিভ অয়েল
ভোজ্য তেলগুলোর মধ্যে উপকারিতার শীর্ষেই রয়েছে অলিভ অয়েলের নাম। অলিভ অয়েল প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্যে ভরপুর, এটি হালকা রান্নার জন্য বা সালাদ ড্রেসিং হিসেবে আদর্শ। তাই সাহরি বা ইফতারের খাবার তৈরিতে এই তেল ব্যবহার করতে পারেন।
৪. চর্বিহীন প্রোটিন
পেশী রক্ষণাবেক্ষণ এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য। এর মধ্যে রয়েছে মুরগির মাংস, টোফু, স্যামন এবং মসুর ডালের মতো উৎস। তাই রোজায় এ ধরনের খাবার নিয়মিত পাতে রাখার চেষ্টা করুন।
৫. চিয়া সিড
ইফতারে কেমিক্যালযুক্ত পানীয় পানের পরিবর্তে বেছে নিন পুষ্টিকর কোনো পানীয়। তাতে যোগ করতে পারেন চিয়া সিড। ফাইবার এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ চিয়া সিড হজম এবং হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
৬. পাতাযুক্ত সবুজ শাক-সবজি
পুষ্টিকর এবং প্রদাহ-বিরোধী, পালং শাক এবং এ জাতীয় পাতাযুক্ত শাক-সবজি সালাদ এবং স্মুদির জন্য উপযুক্ত। ইফতারের আয়োজনে এগুলো রাখলে তা PCOS মোকাবিলায় সাহায্য করবে।
৭. টক দই
ইফতারে দই খাওয়ার অনেক উপকারিতা। তবে তা হতে হবে টক দই। কারণ মিষ্টি দইয়ে অতিরিক্ত চিনি যোগ করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। টক দই অন্ত্রের স্বাস্থ্যকে সহায়তা করে এবং পেশী পুনরুদ্ধারের জন্য প্রোটিন সরবরাহ করে।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)