মঙ্গলবার, ৩১শে মার্চ ২০২৬, ১৭ই চৈত্র ১৪৩২
ফাইল ছবি
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে— তা শেষ করতে হলে অবশ্যই ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই শর্ত ঘোষণা করেছেন।
গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, “যুদ্ধের শুরু থেকে আমাদের সামরিক বাহিনী যে প্রতিরোধ এবং সাধারণ ইরানি জনগণ যে ঐক্য দেখিয়েছে— তা আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। আমার বিশ্বাস, সামরিক বাহিনী এবং জনসাধারণের এই দেশপ্রেমিক অবস্থান নিকট ভবিষ্যতে যাবতীয় কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আমাদের জন্য সহায়ক হবে।”
“ইরান যুদ্ধ চায় না। আমরা এ যুদ্ধ শুরু করিনি। কিন্তু এখন এই যুদ্ধ যদি থামাতে হয়— তাহলে অবশ্যই ইরানের জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।”
ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে পশ্চিমা বিশ্বের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।
তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানের প্রথম দিনই নিহত হন খামেনিসহ ইরানের সামরিক ও সরকারি প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।
সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ইরানে নিহত হয়েছেন মোট ১ হাজার ৩৪০ জন।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)